মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহায়তাকারী এসএম গোলাম মর্তুজাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন গোলাম মর্তুজার স্ত্রী নাদিরা মর্তুজা।
পরিবারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে গোলাম মর্তুজার মুক্তি এবং মিথ্যা মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়ার জোড় দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ সময় গোলাম মর্তুজার স্ত্রী নাজিরা মর্তুজা বলেন, গত ৩ মার্চ সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ০১:২০ মিনিটে র্যাব-১ এর একটি টিম ইঞ্জিনিয়ার এস এম গোলাম মর্তুজাকে আটক করে।
নাজিরা বলেন, এসএম গোলাম মর্তুজা সরকার কখনো আওয়ামী লীগ বা এর কোনও অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের সাথে জড়িত নন বরং তিনি এবং তার পরিবার ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। গোলাম মর্তুজার বাবা কাবিল সরকার দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ ধরে পল্লবীর মুসলিম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির বিএনপি সমর্থিত সভাপতি ছিলেন। তাঁর বড় ভাই এসএম গোলাম মোস্তফা মাষ্টার পল্লবীর ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং সম্প্রতি তিনি মুসলিম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক।
প্রকৌশলী গোলাম মর্তুজা ২৪ এর জুলাই-আগষ্টের গণআন্দোলনের সময় ছাত্র জনতার পক্ষে সমর্থন দিয়ে আন্দোলন সফল করার জন্য বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। বৈষম্য-বিরোধী আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে একাধিকবার রান্না করা খাবার সরবরাহ করেছেন।
৫ আগষ্টের পর ছাত্রদের ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রন নিয়োজিত থাকাকালে তিনি তাদের মধ্যে পানি সরবরাহ করেছেন। এছাড়া, দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কনের সময় ছাত্র-ছাত্রীদের রঙ ও তুলি সরবরাহ করে উৎসাহিত করেছেন।
অথচ তাকে এখন আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট দলের পল্লবী থানার আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য বানিয়ে তাকে ছাত্র হত্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। অথচ পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তার কোন নাম নেই।
নাদিরা আরো বলেন, গোলাম মর্তুজা নিজ উদ্যোগে নিয়ে এলাকায় সমাজসেবা মূলক কাজ করেন। বিগত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়েও প্রকৌশলী এসএম গোলাম মর্তুজার সফলতা সহ্য না করতে পেরে একটি চক্র তার ছবি এডিট করে তাকে বিএনপি নেতা হিসেবে দেখিয়ে থানায় মামলা দাযের করে একাধিকবার হেনস্তা করেছে।
এস এম গোলাম মর্তুজা ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে বেগম খলেদা জিয়া স্বাক্ষরিত একটি সদস্যভুক্তি রশিদ নবায়ন করেন। সাত বছর পর, ২০২১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বিএনপির সাধারন সমর্থক হিসেবে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান ও মহানগর উত্তর বিএনপি নেতা আমিনুল হক স্বাক্ষরিত ‘তথ্য সংগ্রহ ফরম’ পুরন করেন।