Log In

সংবাদ শিরোনাম:
জামায়াত পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে অনড়: গোলাম পরওয়ার জাপানে ২ সপ্তাহে ৯০০ ভূমিকম্প, ঘুমাতে পারছেন না বাসিন্দারা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনে যেতে হলে সংসদের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন : আমীর খসরু জাতীয় ঐকমত্য গঠনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে বিএনপি: সালাহউদ্দিন রাজউক’র ইমারত পরিদর্শক তারিফুরের সীমাহীন দুর্নীতি! (দুর্নীতি ও অনিয়ম পর্ব-১) বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা সাদপন্থিদের নিষিদ্ধ ও ইজতেমা না করতে দেওয়ার দাবি স্কুল ভর্তি ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ ‘আশা করতে পারেন ২০২৬-এর ৩০ জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে’ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রেমিট্যান্স এলো সাড়ে ৬১ কোটি ডলার

আবহাওয়া অধিদপ্তর গিলে খাচ্ছে পিডি আরিফ রশিদ : শতশত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ (দুর্নীতি ও অনিয়ম পর্ব-১)

আবহাওয়া অধিদপ্তর গিলে খাচ্ছে পিডি আরিফ রশিদ : শতশত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ (দুর্নীতি ও অনিয়ম পর্ব-১)

নিজস্ব প্রতিবেদক: সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ও আওয়ামী লীগের অন্যতম দোসর আহম্মদ আরিফ রশিদের বিরুদ্ধে। তিনি কালো তালিকাভুক্ত একাধিক ঠিকাদার কোম্পানিকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর এবং আওয়ামী ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। এর মাধ্যমে এই আরিফ রশিদ নামে-বেনামে, দেশে-বিদেশে গড়ে তুলেছে সম্পদের পাহাড়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর কল্যাণপুরে যে ফ্ল্যাটে থাকেন সেই ফ্ল্যাটও পেয়েছেন কাজ পাইয়ে দেয়োর সুবাদে উপহার স্বরূপ। শুধু তাই নয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে রয়েছে আরো নানা অভিযোগ। এই আরিফ রশিদের স্ত্রী খাদিজা পারভিন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের যুগ্ম-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। জানামতে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সব প্রকল্প পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকেই অনুমোদন হয় এবং অডিটসহ যাবতীয় কাজ করে থাকে। সেখানে আরিফ রশিদের স্ত্রী কর্মরত থাকায় তাদের দুর্নীতি ও অনিয়ম করতে সহজ হয়। জানা গেছে, তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে গড়ে তুলেছে এক দুর্নীতির সাম্রাজ্য। দুনীতির সেই টাকার সিংহভাগ টাকা সে বিদেশে পাচার করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার ছোট ভাই থাকে কানাডায়। সেখানে একাধিক বাড়ি নির্মাণসহ গড়ে তুলেছে এক সাম্রাজ্য। জানা গেছে, চাকরির মেয়াদ শেষ হলে তিনি কানায় চলে যাবেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। নিজের ক্ষমতা বলে তাদেরও ভাল চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকতা ও কর্মচারীদের সাথে কথা বলে এবং আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আরিফ রশিদের নানা অপকর্ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি।

জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২৪৭ কোটি টাকার প্রকল্পে সীমাহীন দুর্নীতির কারণে বর্তমানে প্রকল্পেরে মূল সিষ্টেমই অচল হয়ে পড়েছে। এদিকে আহম্মদ আরিফ রশিদের চাকুরী মেয়াদ রয়েছে আর মাত্র কয়েকদিন। যেকোনো সময় তিনি দেশ ছেড়ে চলে যতে পারেন। তাই আহম্মদ আরিফ রশিদের দুর্নীতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় দ্রুত তদন্ত ও অনুসন্ধানের দাবী জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকতা ও কর্মচারীরা। ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে তার নামে একটি অভিযোগও দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক আহম্মদ আরিফ রশিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো- প্রকল্পের নাম- বাংলাদেশ আঞ্চলিক আবহাওয়া জলবায়ু সেবা প্রকল্পের আওতায় আবহাওয়া তথ্য সেবা ও আগাম শর্তকবাণী জোরদারকরণ (কম্পোনেন্ট-এ) থেকে আরিফ রশিদের অধীনে ২০০৯ সালে শেষ হওয়া প্রকল্পের ১৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার অনিয়ম ধামাচাপার অভিযোগ রয়েছে। যার তদন্ত প্রতিবেদন আজও দেয়া হয়নি। এছাড়া ২৪৭ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। এই প্রকল্পেও তথ্য প্রমানে দেখা যায়, এক টাকার জিনিস বিশ টাকা অতিমূল্যে বাজার দর তৈরি করে দুই থেকে তিনটি ঠিকাদারি কোম্পানির মাধ্যমে প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, এই প্রকল্প পরিচালক প্রশিক্ষণের অন্তরালে ৩০ কোটি টাকা হরিলুট করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় অনুমোদিত ডিপিপিতে ১০০০ জনের প্রশিক্ষণের কথা থাকলেও বাস্তবে দশ জনও প্রশিক্ষণ করেনি বলে জানা যায়। কারণ শুধুমাত্র অর্থলোপাটের উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণের বাজেট বাড়ানো হয়। শুধু তাই নয়, গণপূর্তকে বাদ দিয়ে নিজেরায় মেরামত সংস্কারের নামে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, চিটাগাং আমতলী অফিসে অবৈধভাবে টাকা হরিলুট করেন এই প্রকল্প পরিচালক।

সূত্রমতে, বিএমডি জি৮ মেট্রলজিকাল ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন স্টেশন (এম আই সি এস) স্থাপনে ৫০ কোটির অধিক টাকা খরচ দেখিয়েছেন। যার সিংহভাগ টাবা তিনি আত্মসাঃ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশনের ক্ষেত্রেও প্রতি সেট ১৩ লক্ষ বারো হাজার তিনশ টাকা হারে ৩৩ কোটি ৬ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬০০ টাকার নানাবিধ যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ কেনা হয়েছে। ৯ কোটি টাকা মূল্যের তিনটি অটোমেটিক ওযেদার অবজারবিং সিস্টেম ক্রয় করা হয়েছে। অথচ এগুলোর মূল সিস্টেমে এখন পর্যন্ত অচল হয়ে পড়ে আছে।

অভিযোগ রয়েছে, পিডি আরিফ রশিদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে ঢাকার কল্যাণপুরে অবস্থিত বিলাস বহুল স্মার্ট গার্ডেন ভবনে দুটি ফ্লাট গিফট নিয়েছেন। ফ্লাট দুইটি স্মার্ট গার্ডেনের পঞ্চম তলায় ৭৪/বি/১, রোড ১৪ কল্যানপুর ঢাকায়। এবং নামে বেনামে ঢাকাতে ফ্লাট প্লট সুবিধা নিয়েছেন বিভিন্ন কোম্পানির নিকট থেকে এবং দুর্নীতির টাকা পাচার করেছেন দেশে বিদেশে।

জানতে চাইলে আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রকল্পের নামে সমস্ত কাজে অর্থলুটপাটের স্টিমরোলার চালানো হয়েছে। সে আওয়ামী লীগের একজন অন্যতম দোসর। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়াসহ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। তিনি এমনিতেই আবহাওয়া অধিদপ্তরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সে আরো বহাল থাকলে আরো অনেক ক্ষতি করবে।

এসব বিষয়ে পিডি আরিফ রশিদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটস্আপে ম্যাসেস দিলেও রিপ্লাই দেননি।

সময়ের বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *